বিপ্লব কখনোই সহজ ব্যাপার নয়। ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টে যা ঘটেছে, তা একটি রাজনৈতিক অভ্যুত্থান। তবে এটি কোনো সামাজিক বিপ্লব নয়। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটলেও রাষ্ট্রের মূল চরিত্র আগের মতোই রয়ে গেছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরও রাষ্ট্রের পুঁজিবাদী এবং আমলাতান্ত্রিক কাঠামো অপরিবর্তিত ছিল। ক্ষমতার প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ এবং সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে আসল পরিবর্তন সম্ভব নয়।
উন্নয়ন এবং বৈষম্যের সমীকরণ
দেশের উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু সেই উন্নয়ন থেকে উপকৃত হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ। বাকি ৮০ শতাংশের শ্রমেই এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে, তবে তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
পূর্ববর্তী সরকার ফ্যাসিবাদী চরিত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। লুটপাট এবং সম্পদ পাচার হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। এর মাধ্যমে ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণ আরও তীব্র হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ভূমিকা
পুলিশ বাহিনী জনগণের টাকায় পরিচালিত হলেও তাদের ভূমিকা ছিল নির্যাতনকারী। বিরোধীদের দমন এবং গণহত্যার মতো কর্মকাণ্ডে তারা সক্রিয় ছিল। এই চরিত্র পাকিস্তানি দখলদারদের মনে করিয়ে দেয়।
তারুণ্যের শক্তি এবং নতুন সম্ভাবনা
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান তরুণদের শক্তি ও সাহসিকতার প্রতীক। তারুণ্যের অসামান্য ভূমিকা ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে। এই অভ্যুত্থানের কেন্দ্রীয় চরিত্র আবু সাঈদ, যিনি প্রমাণ করেছেন যে তারুণ্যের শক্তি দুর্নীতি এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম।
ক্ষমতার অপব্যবহার
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা এবং সম্পদের প্রতি অদম্য লোভে অমানবিক হয়ে উঠেছিলেন। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে তিনি ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন।
ক্ষমতায় টিকে থাকতে তিনি বিভিন্ন বাহিনী এবং বিদেশি শক্তির সহায়তা নিয়েছেন। তবে জনগণের ক্রোধ এবং তারুণ্যের প্রতিরোধ তার পতন ডেকে এনেছে।
ফ্যাসিবাদের মূল উপাদান
সরকার পরিবর্তন হলেও সমাজ এবং রাষ্ট্রের ফ্যাসিবাদী উপাদানগুলো রয়ে গেছে। পুঁজিবাদী উন্নয়ন মানুষে-মানুষে বৈষম্য বাড়িয়েছে এবং দেশপ্রেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ফ্যাসিবাদী শাসনের শেষ হয়, কিন্তু তার শিকড় রাষ্ট্র ও সমাজে রয়ে যায়। এই উপাদানগুলো ভবিষ্যতে নতুন সংকট এবং পীড়নের জন্ম দেবে।
একটি ঐতিহাসিক শিক্ষা
এবারের অভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক বার্তা দিয়েছে—যদি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষোভ প্রকাশের সুযোগ না থাকে, তবে তা জনরোষে রূপ নেয়। তারুণ্যের শক্তি সমাজে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করে, যা বয়স্ক প্রজন্ম দিতে ব্যর্থ।
