বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক খাত নানান চাপে ভুগছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ক্রয়ক্ষমতার হ্রাস এবং পরিচালন ব্যয়ের বেড়ে যাওয়ার ফলে পণ্য ও সেবা বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে অনেক উদ্যোক্তা নতুন বিনিয়োগের চেয়ে রুগ্ণ ব্যবসাগুলো গুটিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তারা সরকারের কাছে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও বাংলাদেশ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। দেশে বিনিয়োগের জন্য একজন উদ্যোক্তাকে ২৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪১টি ছাড়পত্র নিতে হয়। এই জটিল প্রক্রিয়ার পাশাপাশি গত কয়েক বছরে গ্যাসের দাম ২৫০-৪৫০ শতাংশ বেড়েছে। একইসঙ্গে ঋণের উচ্চ সুদহার, ডলারের দর বৃদ্ধি এবং কর-মূসকের চাপ ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে।
বিনিয়োগের নিম্নগতি
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে বিনিয়োগে নিম্নগতি লক্ষণীয়। ২০২৩ সালে বিনিয়োগ প্রস্তাবের পরিমাণ ২০২১ সালের তুলনায় অনেক কমেছে। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বিনিয়োগের সংখ্যা আরও কমে গেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিও বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করছে।
বৈঠকে উঠে আসা দাবি
গতকাল বিসিআই-এর নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা জানান, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে ব্যবসায়ীরা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। ঋণের উচ্চ সুদহার এবং গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। নগদ সহায়তার আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুততর করার পাশাপাশি ঋণ সুবিধার মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বিদেশি বিনিয়োগে পতন
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদেশি বিনিয়োগ আগের বছরের তুলনায় ৮.৮ শতাংশ কমে গেছে। রিজার্ভের ঘাটতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব বিদেশি বিনিয়োগে স্পষ্টভাবে পড়েছে।
সিএমএসই খাতের সংকট
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত (সিএমএসই) সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। খেলাপি ঋণের নতুন নিয়ম চালু হলে এই খাত আরও চাপে পড়বে। বিশেষ তহবিল এবং নিম্ন সুদের ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে সিএমএসই খাতকে রক্ষা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া বা এক্সিট পলিসি একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উদ্যোক্তারা আশা করছেন, দ্রুত নীতিমালা কার্যকর হলে তাদের জন্য টিকে থাকা সহজ হবে।
